Breaking

Saturday, November 10, 2018

জার্মান হাসপাতালে বিদেশি চিকিৎসক ও ভাষা সমস্যা

জার্মান হাসপাতালে বিদেশি চিকিৎসক ও ভাষা সমস্যা
ভেবে দেখুন তো অসুস্থ হয়ে ডাক্তার দেখাতে গেলেন কিন্তু তাঁকে বোঝাতে পারছেন কী হয়েছে আপনার৷ নিজেকে নিশ্চয়ই অসহায় মনে হবে তখন৷ ইদানীং জার্মানির অনেক হাসপাতালে এই রকম অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছেন রোগীরা৷
আন্দ্রেয়া স্টানিসেভস্কি ‘রোগী অধিকার রক্ষা ফাউন্ডেশনের’ পরামর্শ দাতা৷ আগে এক ক্লিনিকে নার্স হিসাবে কাজ করেছেন তিনি৷ তাই রোগীরা যে অনেক সময় চিকিত্সকের কথা বুঝতে পারে না, সমস্যাটি তিনি জানেন৷ অনেক বয়স্ক রোগীই তাঁর কাছে নানা পরামর্শের জন্য আসেন বা টেলিফোনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন৷ যে সব বিষয় তাঁদের মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে তা হলো: বিভিন্ন অসুখ বিসুখে চেকআপের জন্য কোথায় যেতে হবে৷ বা মরণাপন্ন হলে যাতে মেশিনে আবদ্ধ হয়ে টিকে থাকতে না হয়, সে ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়া যায় ইত্যাদি ইত্যাদি৷ তাঁরা জানান, ডাক্তারদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় না৷ বা তাঁদের কথা বোঝা যায় না৷
সর্ব রোগে পরিত্রাতা
চিকিত্সকরা তো রোগীদের কাছে সব রোগের পরিত্রাতা৷ বলা হয় সাদা অ্যাপ্রোনে ‘আধা ঈশ্বর’৷ কিন্তু তাঁরা যদি ভাষাটা না বোঝেন তাহলে রোগ ভালো করবেন কী ভাবে? হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলিতে বিদেশি ডাক্তারদের সংখ্যা এখন বেড়ে চলেছে৷ সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে ‘ভাষাহীনতা’৷ কেননা অনেকেই জার্মান ভাষাটা ভালোভাবে রপ্ত না করেই কাজ শুরু করেন৷ এরকম ঘটনা প্রায়ই দেখা যায় যে, রোগীরা ডাক্তারকে সমস্যাটা বোঝাতে না পেরে নার্সকে দোভাষী হিসাবে ডাকছেন৷ অনেক সময় রোগের লক্ষণগুলি বুঝতে দেরি হয়ে যায়৷ রোগী যদি বোঝাতেই না পারেন, কোথায় তার জ্বালা যন্ত্রণা কিংবা সমস্যাটাই বা কী, তাহলে চিকিত্সা যে পিছিয়ে যাবে তা বলাই বাহুল্য৷

অনেক জার্মান ডাক্তার বেশি বেতন ও চাকরি ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধার জন্য বিদেশে পাড়ি দেন
বোঝার সমস্যা
এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল আন্দ্রেয়া স্টানিসেভস্কির বাবাকেও৷ কয়েক বছর আগে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি৷ করতে হয়েছিল অপারেশন৷ আগের রাতে বিদেশি এক ডাক্তার, তরুণ এক অ্যানেস্থেটিস্ট, একটি স্লিপ ধরিয়ে দেন তাঁর হাতে৷ এরপর সংক্ষেপে বলেন, এই খানে ঝুঁকিগুলি লেখা, ওখানে সই করুন৷ অপারেশন সম্পর্কে তাঁর বাবাকে বোঝানো বা প্রবোধ দেয়ার মত জার্মান ভাষায় দখল তাঁর ছিল না৷
জার্মানির ক্লিনিক ও হাসপাতালে এটি কোনো বিরল ঘটনা নয়৷ তাই বিদেশি চিকিত্সকদের জন্য জার্মান ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে এখন৷
ডা. গিওরগিওস গোডোলিয়াস ৩৭ বছর আগে গ্রিস থেকে এসেছেন৷ আজ তিনি হেরনে শহরের সেন্ট আনা হসপিটালের প্রধান৷ তাঁর টিমের এক চতুর্থাংশ ডাক্তার বিদেশি বংশোদ্ভূত৷ রুর অঞ্চলের অন্যান্য হাসপাতালেও অনেকটা একই রকম চিত্র৷
ভাষা শেখায় গুরুত্ব
আসল কথা হলো, জার্মান সমাজকে এটা স্বীকার করে নিতে হবে যে, চিকিত্সা ব্যবস্থা ঠিকমত চালাতে হলে বিদেশি ডাক্তার প্রয়োজন৷ অনেক জার্মান ডাক্তার বেশি বেতন ও চাকরি ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধার জন্য বিদেশে পাড়ি দেন৷ তাই জার্মান ডাক্তারের টানাটানি রয়েছে এখানে৷ তবে বিদেশি ডাক্তারদের শুধু হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়া হলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না৷ তাঁদের চিকিত্সা ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থাও করতে হবে৷
তবে ডা. গিওরগিওস গোডোলিয়াসের মতে চিত্রটা অত ধূসর নয়৷ ক্লিনিকে ডাক্তারদের নিয়োগ দেয়ার সময় লক্ষ্য রাখা হয়, জার্মান ভাষায় প্রাথমিক জ্ঞান তাঁদের আছে কিনা৷ ভাষার কারণে চিকিত্সায় ভুল হয়েছে, এই রকম ঘটনা তাঁর চোখে পড়েনি৷
চিকিত্সা ব্যবস্থা ঠিকমত চালাতে হলে বিদেশি ডাক্তার প্রয়োজন
অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত
হেরনে শহরে বিদেশি ডাক্তারদের জন্য ২০১২ সাল থেকে জার্মান ভাষা শিক্ষার বিশেষ কোর্স চালু করা হয়েছে৷ এই কোর্সে দৈনন্দিন কাজ কর্ম চালানোর জন্য ভাষা শেখানো তো হয়ই, পাশাপাশি চিকিত্সা শাস্ত্রের শব্দগুলির ওপরও জোর দেওয়া হয়৷
এছাড়া একজন কোচও সাহায্যের জন্য পাশে এসে দাঁড়ান৷ প্রয়োজন হলে হাসপাতালে এসে ডাক্তার ও রোগীর কথোপকথনে দোভাষীর কাজ করেন তিনি৷ এই কোর্স মাস ছয়েক ধরে চলছে৷ দেখা গেছে এতে ডাক্তার ও রোগী দুই পক্ষই সন্তুষ্ট৷
মারবুর্গের চিকিত্সক সমিতি মনে করে জার্মানির হাসপাতালে কর্মরত সব বিদেশি চিকিত্সকের জন্যই এই ধরনের ভাষা কোর্সের ব্যবস্থা করা উচিত৷ এই সমিতির পক্ষ থেকে এব্যাপারে সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে৷
স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে বিষয়টির গুরুত্ব কিন্তু কম নয়৷ এমনিতেই জার্মানির হাসপাতালগুলিতে ডাক্তারদের অতিরিক্ত কাজ করতে হয়৷ এক সমীক্ষায় ৭০ শতাংশ চিকিত্সকই জানিয়েছেন যে, তাঁদের ওভার টাইম কাজ করতে হয়৷ এ কারণে তাঁরা প্রায়ই ক্লান্ত থাকেন৷ অনেক সময় কাজে মনোযোগও নষ্ট হয়ে যায়৷ এর ওপর আবার যদি দোভাষী হিসাবে কাজ করতে হয় তাহলে তো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে৷
জার্মানিতে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তাভাবনা
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানের ব্যাপারে জার্মানিতে এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে৷ অথচ কারো মস্তিষ্কের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অন্য কোনো মরণাপন্ন রোগীর জীবন রক্ষা করতে পারে৷
১৯ বছরের কেভিন কিছুদিন আগেও ছিল সুস্থ সবল এক তরুণ৷ কিন্তু হঠাৎ একদিন অজ্ঞান হয়ে যায় সে৷ পরীক্ষা করে জানা গেল মারাত্মক এক ধরনের হৃদরোগে ভুগছে সে৷ নতুন হৃদযন্ত্র না পেয়ে কৃত্রিম এক ধরনের পাম্প বসিয়ে দেয়া হয়েছে তার হার্টে৷ এই মেশিনেই এখন আবদ্ধ কেভিনের জীবন৷ কেভিন জানায়, ‘‘এটা কোনো ভাল অনুভূতি নয়, খুবই খারাপ৷ কিন্তু মেশিন খুলে ফেললে আমি আধ ঘন্টার মধ্যে মারা যাব৷”
হার্টের পাম্পটি তার শরীরকে কাহিল করে ফেলছে৷ এই ভাবে চললে বেঁচে থাকবে সে আর মাত্র কয়েক বছর৷ ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ১০০ কিলোমিটার দূরে লাইপৎজিগের হার্ট ক্লিনিকে কেভিনকে নিয়ে যান তার বাবা৷ নিজের অনুভূতি জানায় কেভিন এভাবে, ‘‘গাড়িতে করে যাওয়ার সময় সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকি৷ হাসপাতালে গিয়ে শুনতে হবে, অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়নি তো? সংক্রমণ হয়নি তো? হাসপাতালে থাকতে হবেনা তো? সংক্রমণ হলে সেটা খুব বিপজ্জনক হবে৷ আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে সব কিছু৷”
কেভিনের বাবা বলেন, ‘‘মনে হয় সব কিছুই যেন ছবির মত ঘটে যায়৷ স্পষ্ট কোনো চিন্তাভাবনা করা যায়না৷ বাবা হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনা৷ কিডনির সমস্যা হলে আমি ওকে একটা কিডনি দিতে পারতাম৷ কিন্তু হার্টের ক্ষেত্রে তো তা সম্ভব নয়৷”
অঙ্গদানের ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দ্ব
কেভিনের মত ভাগ্য আরো অনেকেরই৷ জার্মানিতে রয়েছে অঙ্গদাতার অভাব৷ ব্রেইন ডেড বা মস্তিষ্কের মৃত্যু হলে হার্ট, লিভার, কিডনি, ফুসফুস এসব অঙ্গ অনেক সময় ভাল থাকে৷ কিন্তু অন্যান্য অনেক ইউরোপীয় দেশের মত জার্মানিতে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে উইল করতে দ্বিধা লক্ষ্য করা যায় মানুষের মধ্যে৷ আত্মীয়স্বজনের সিদ্ধান্তটাও ইতিবাচক হয়না বেশির ভাগ ক্ষেত্রে৷ প্রতি সাতে একজন অঙ্গদাতা পাওয়া যায়৷
সমস্ত ব্যবস্থাটা পরিচালিত হয় জার্মানির অঙ্গদানের সমন্বয় কেন্দ্র থেকে৷ জার্মানিতে হাজার হাজার রোগী বৃথাই কোনো অঙ্গের জন্যে অপেক্ষা করে থাকেন দিনের পর দিন৷ খ্যাতনামা অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ গ্যুনটার কির্সটে’র মতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও রাজনীতিকদের উদ্যোগের অভাবই এক্ষেত্রে দায়ী৷
তাঁর ভাষায়, ‘‘আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি৷ তাদের উচিত জনগণকে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে সচেতন করা৷”
জ্ঞানের অভাব৷ এ কারণে কেভিন কেরুটের মত রোগীদের ভুগতে হচ্ছে৷ লাইপৎজিগের হার্ট ক্লিনিকে পরীক্ষা করে দেখা গেল কেভিনের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে৷ অদ্ভুত ব্যাপার হল, অবস্থা আরো খারাপ হলেই কেবল কেভিনের সুস্থ একটি হৃদযন্ত্র পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে৷
নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ
অঙ্গদানের ক্ষেত্রে এই দুরবস্থার কারণে রাজনীতিকদের টনকও নড়েছে৷ তাঁরা এখন অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপন আইনের পরিবর্তন করতে চাইছেন৷ জার্মান সংসদের নিম্নকক্ষ বুন্ডেসটাগের সিডিইউ/সিএসইউ দলের সংসদীয় প্রধান ফল্কার কাউডার এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমরা জার্মানিতে আরো বেশি অঙ্গদাতার প্রয়োজন অনুভব করছি৷ এ জন্য আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, যাতে মানুষরা জীবনে অন্তত একবার বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামায়৷ আমি কী অঙ্গ দান করতে চাই, না চাইনা, নাকি এই বিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই৷”
পাসপোর্ট, পরিচিতি পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় প্রত্যেককে অঙ্গ দানের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে৷ সিদ্ধান্তটা ডকুমেন্টে লিখে রাখা হবে৷ এসপিডি দলের সংসদীয় প্রধান শ্টাইনমায়ারও এই নতুন আইন প্রণয়নের ব্যাপারে সহযোগিতা করছেন৷ দুরারোগ্য কিডনির রোগে আক্রান্ত স্ত্রীকে নিজের কিডনি দিয়েছেন শ্টাইনমায়ার কিছুদিন আগে৷ কিন্তু সংসদের নিম্নকক্ষে এব্যাপারে বিরোধী কন্ঠও শোনা যাচ্ছে৷ সবুজ দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সাংসদ এলিজাবেথ শার্ফেনব্যার্গ বলেন, ‘‘আমার পাসপোর্টটি বিশ্বের যে কোনো বিমান বন্দরে দেখাতে হয়৷ সেখানকার কর্মীদের আমি এ সম্পর্কে তথ্য দিতে ইচ্ছুক নই৷ এ ছাড়া মানুষকে এই বিষয়টি নিয়ে মাথা না ঘামানোর অধিকারও দিতে হবে৷”
অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত জার্মান ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র গ্যুন্টার কির্সটে এই ধরনের বিতর্ককে ভুল বলে আখ্যা দেন৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘সমস্যাটা হল, এক্ষেত্রে আবার আতঙ্ক দেখা দিতে পারে, প্রশ্ন জাগতে পারে মস্তিষ্কের মৃত্যু নিয়ে৷ বৈজ্ঞানিক দিক দিয়ে বিষয়টি খুবই স্পষ্ট৷ এ ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই৷ কিন্তু বিতর্ক শুরু হলেই মানুষের মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে৷”
জার্মানি এবং অবৈধ মাদকদ্রব্যের অনুমোদন?
জার্মানিতে দুই ধরনের মাদক দ্রব্যের বিক্রি এখনও পর্যন্ত বেআইনি নয়, আর তা হলো, অ্যালকোহল ও তামাক৷ আনুমানিক ৬০ লক্ষ মানুষ নিকোটিনে এবং ১৭ লক্ষ (১,৭মিলিয়ন) মানুষ অ্যালকোহলে আসক্ত, যার পরিণাম মারাত্মক৷
মাদকাসক্তি এক ধরনের অসুখ, যার চিকিত্সা প্রয়োজন৷ কেন না আসক্তির কারণে ক্যানসার, এইডস বা হার্টের অসুখের মতো কঠিন রোগ দেখা দিতে পারে, হতে পারে মৃত্যুও৷ মানসিক অসুখ-বিসুখের কবলেও পড়েন অনেকে৷ স্বাস্থ্যবিমাগুলির ব্যয় হয় প্রচুর অর্থ৷ আশার কথা, জার্মানিতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ধুমপান ও অ্যালকোহল পানের প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে৷ কিন্তু কিশোর ও তরুণদের মধ্যে তা আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ জার্মান মাদকাসক্তি প্রতিরোধ কেন্দ্র, ডিএইচএস’এর মুখপাত্র গাব্রিয়েলে বার্টশ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘জার্মানিতে অ্যালকোহল ও তামাক সেবনের কারণে প্রতিবছর ৭৩০০০ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে৷ এই সংখ্যাটা প্রায় ব্রান্টেনবুর্গ শহরের জনসংখ্যার সমান৷”
মাদকের ওপর বিধিনিষেধ
পাশাপাশি ক্যানাবিস ও অন্যান্য অবৈধ মাদকদ্রব্যও মাদক বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এগুলি চেতনানাশক সংক্রান্ত আইনের আওতায় পড়ে৷ এই আইন অনুযায়ী মারাত্মক মাদকদ্রব্যের চাষবাষ, ব্যবসা বা সেবন নিষিদ্ধ, যা অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ এইভাবে মাদকজনিত অপরাধপ্রবণতা রোধ করার চেষ্টা করা হয়, বিশেষ করে মাদকসেবন করে যাতে স্বাস্থ্যের হানি না ঘটে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হয়৷ কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে, এই ধরনের বিধিনিষেধ কতটা কার্যকরী হচ্ছে?
ডিএইচএস’এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাফায়েন গাসমান জানান, ‘‘মাদকদ্রব্যের ওপর কড়াকড়ি আরোপ বা শিথিল করা হলে তার ফলাফল কীরকম হতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে ইতিমধ্যে৷ পর্তুগাল ও চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলিতে মাদকদ্রব্যের ওপর কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হওয়া সত্ত্বেও গত ১০ বছরে মাদকসেবনের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়নি৷ অন্যদিকে, যে সব দেশে বিধিনিষেধের বেড়াজালটা বেশি, সেসব দেশে কিন্তু মাদক সেবন হ্রাস পায়নি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বরং বৃদ্ধিই পেয়েছে৷”
প্রতিরোধ সহজ নয়
আন্তর্জাতিক মাদক বিশেষজ্ঞরা মাদকাসক্তি রোধ করার ব্যাপারে একমত হলেও তা বিধিনিষেধ আরোপ করে সম্ভব কিনা, সে ব্যাপারে সন্দিহান অনেকে৷ রাফায়েল গাসমান বলেন, ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানাবিস বা গাঁজা সেবনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে৷ এশিয়ার কোনো কোনো দেশে তো আরো কড়া আইন প্রচলিত৷ অ্যামেরিকার কয়েকটি রাজ্যে অল্প কয়েক গ্রাম ক্যানাবিস নেওয়ার কারণে বছর দশেক কারাদণ্ড হতে পারে৷ কিন্তু তবুও সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গাঁজা সেবনের দেশ বলে পরিচিত অ্যামেরিকা৷ অন্য কোনো দেশে এত বেশি ক্যানাবিস সেবন হয় বলে আমার জানা নেই৷”
এভাবেই দোকানের তাক থেকে পছন্দের অ্যালকোহল কিনতে পারেন ক্রেতারা
আইনের বাধাও সুফল আনেনি
আইন প্রণয়ন করে মাদক সেবনের প্রবণতা কমানো যাবে কিনা, সে ব্যাপারে সন্দিহান এই বিশেষজ্ঞ৷ বরং বিধিনিষেধের ফলে মাদক সেবনের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে৷ এই প্রসঙ্গে একটি মডেলের কথা উল্লেখ করেন তিনি, যা প্রথমে সুইজারল্যান্ড ও পরে জার্মানিতেও প্রয়োগ করে সাফল্য দেখা গেছে৷ একটি কেন্দ্রে চিকিত্সকদের তত্ত্বাবধানে হিরোইন আসক্তদের মাদকদ্রব্যের ইন্জেকশন দেওয়া হয়৷ এইভাবে নিয়ন্ত্রিত মাদক সেবনের মাধ্যমে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত হওয়ার পথটাও সুগম হয়৷ কাজে লাগে থেরাপিও৷ একই সাথে মাদক সংগ্রহের জন্য অপরাধমূলক কার্যকলাপ থেকেও বিরত থাকেন মাদকসেবীরা৷ সহজেই আবার সমাজের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারেন তারা৷
সব মাদকে ছাড়পত্র নয়
তবে ডিএইচএস’এর মাদক বিশেষজ্ঞরা বেআইনি মারাত্মক মাদকদ্রব্যকে বৈধতা দেওয়ার পক্ষপাতী নন, যেমনটি শোনা যায় ক্যানাবিসকে ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যাপারে কিছু জার্মান রাজনীতিকের কন্ঠে৷ এই কথাই বলছিলেন রাফায়েল গাসমান, ‘‘বিষয়টি এই নয় যে, আমরা মাদকদ্রব্যের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেব কিনা৷ বরং স্বাস্থ্যনীতিটাই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷ মাদকাসক্তি প্রতিরোধে আমাদের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, জনগণকে বোঝাতে হবে যে, মাদক সেবন অবসর সময় কাটানোর কোনো নির্দোষ আমোদপ্রমোদ নয়৷ এর ফলে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে৷ বিশেষ করে অল্পবয়সী মাদকসেবীদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে, যাদের মধ্যে হিরোইন বা কোকেনের মত কড়া মাদকের প্রতি আসক্তি লক্ষ্য করা যায়৷ মাদক নিবারক ব্যবস্থার পাশাপাশি থেরাপির ওপর জোর দিতে হবে৷ তবে এসব কিছুর জন্যই প্রয়োজন অর্থের৷”
অর্থের সাশ্রয়
মাদক নিরোধক কেন্দ্রটি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে, মাদক নিবারণে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর মনোযোগ দিতে৷ এই ধরনের পদক্ষেপ শাস্তির চেয়েও বেশি কার্যকরী হবে৷ বিষয়টি ব্যয়সাপেক্ষ হলেও মাদকজনিত অসুখবিসুখের হাত থেকে রক্ষা পেলে অর্থের সাশ্রয়ও হবে৷ এছাড়া যাদের এখনও মাদকসেবনেরঅভিজ্ঞতা হয়নি, তারাও ওদিকে হাত বাড়াবে না৷

দ্রষ্টব্য এটি শুধুমাত্র প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য যারা সত্যিই বিদেশ থেকে বিদেশে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। আবেদনকারীরা দৃঢ়ভাবে আমাদের অফিসে :
 সরাসরি যোগাযোগ বা মৌলিক তথ্যের জন্য ফোন 01911878274 এ সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়। যদি আপনি আরও যেতে চান তবে পাসপোর্ট সহ আপনার সমস্ত অ্যাকাডেমিক নথির সাথে আমাদের অফিসে যান।

সানরাইজ এডুকেশন কন্সালটেন্টস
ফোন: 01911878২74; 01707272625
ইমেইল: info@sunrise-bd.net
ওয়েবসাইট: www.sunrise-bd.net

No comments:

Post a Comment