Breaking

Friday, November 9, 2018

বাসস্থান:

বাসস্থান:
জার্মানিতে অভিবাসীদের বাসস্থান সমস্যা:
জার্মানির সমাজে অভিবাসীদের নানা ক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার হতে হয়৷ এমনকি তাদের বাড়িঘরগুলিকেও সুখকর বা স্বাস্থ্যকর বলা যায় না৷ অন্তত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই৷
সম্প্রতি একটি বাড়িতে আগুন লেগে এক তুর্কি পরিবারের ৮ সদস্য মারা যান৷ যার ফলে নতুন করে অভিবাসীদের বাসস্থান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়৷ চলুন, এক তুর্কি পরিবারে গিয়ে দেখা যাক তারা কীভাবে বসবাস করছেন৷

ঘর তো গরম হয় না
পরিবারের প্রধান আদেল খালিফি তাঁর বসার ঘর তিন জোড়া মোজা পরে বসে আছেন৷ পেছনের দিকে জানালাটা ভাল করে বন্ধ হয় না৷ শীতল বাতাস ভেতরে ঢোকে৷ রেডিয়েটরের কাঁটা সবটা ঘুরিয়েও গরম হয় না ঘরটি৷ ‘‘এখানকার বাড়িগুলি ৩০ বছরের পুরানো৷ কোনো কোনোটি স্যাঁতস্যাঁতে, ছত্রাক আক্রান্ত৷” জানান আদেল খালিফির পুত্রবধূ সোনিয়া খালিফি৷ অভিযোগ করলে বাড়ির মালিকের পক্ষ থেকে লোক পাঠানো হয়৷ তিনি দেখে বলেন, ‘‘এটা তো এমন কিছু নয়, একটু মুছে ফেললেই ঠিক হয়ে যাবে৷”
মেঝেতে অ্যাসবেস্টাসের মত ক্যানসার উদ্দীপক মারাত্মক পদার্থও পাওয়া গেছে৷ খালিফি পরিবারের ভাগ্য ভাল বলতে হবে, কিছুদিন আগে বদলানো হয়েছে মেঝেটি৷এখানকার প্রায় সব বাড়িই বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে৷ কিন্তু মেরামতের নাম নিচ্ছেন না মালিক কর্তৃপক্ষ৷

সমস্যা একই ধরনের
মেঝেটি মেরামতের সময় চার সদস্যের পরিবারটিকে আশ্রয় নিতে হয় আদেল খালিফির বাবা আহমেদ খালিফির বাড়িতে৷ ১৯৬৫ সালে টিউনিশিয়া থেকে জার্মানিতে এসেছেন তিনি৷ গড়ে তুলেছেন পরিবার৷ তিনিও ছেলের মত একই কোম্পানির বাড়িতে ভাড়া থাকেন৷ সমস্যাগুলিও একই ধরনের৷ ছেলের সাথে একটি চিঠিকে ঘিরে আশা নিয়ে বসে আছেন তিনি৷ ভাড়াটে সমিতির পক্ষ থেকে এই পত্রটি তাঁদের জন্য লেখা হয়েছে৷ কয়েক বছর ধরে বাড়িঘরের দুরবস্থা নিয়ে মালিকের কাছে অভিযোগ করে আসছেন তাঁরা৷ কিন্তু অরণ্যে রোদন৷ মালিক কোম্পানি তাঁদের অভিযোগগুলি এখন শুধু খুঁটিয়ে দেখতে চায়৷
জরাজীর্ণ বাড়িতে দুর্ঘটনা
বাডেন-ভ্যুর্টেমব্যার্গের বাকনাং শহরে ঘটা মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডটিও বাড়িটির দুরবস্থার কারণে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ বাড়িটিতে আগুন লেগে এক তুর্কি পরিবারের এক নারী তাঁর সাত সন্তানসহ মারা যান৷ পুরানো বৈদ্যুতিক লাইন বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল৷ বাড়িওয়ালাকে বার বার বলা সত্ত্বেও মাথা ঘামাননি বিষয়টি নিয়ে৷ ঘর গরম করার একমাত্র উপায় ছিল কাঠের চুল্লিটি৷ গরম পানির কোনো ব্যবস্থাও ছিল না বাড়িতে৷
এই দুর্ঘটনা অভিবাসীদের বাসস্থান সমস্যাটিকে আবার স্পষ্ট করে তুলেছে৷ ৭০-এর দশকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল৷ ইদানীং বিষয়টি কিছুটা স্তিমিত হয়ে গিয়েছে৷ এই প্রসঙ্গে ডার্মস্টাট ইউনিভার্সিটির অভিবাসন ও বাসস্থান সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ সিবিলে ম্যুন্শ ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, ‘‘এর কারণ গত কয়েক বছরে আসবাবপত্রও সাজসজ্জার দিকে দিয়ে জার্মানদের সঙ্গে অভিবাসীদের পার্থ্যকটা অনেকটাই কমে এসেছে৷ তবে বাড়িঘরের অবস্থা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার দিক দিয়ে অভিবাসীরা এখনও বৈষম্যের শিকার৷ এছাড়া একই ধরনের বাড়ির জন্য জার্মানদের তুলনায় তাঁদের গুনতে হয় বেশি ভাড়া৷”
বড় বাসা দুরাশা
পাঁচ সদস্যের খালিফি পরিবার ৭৮ বর্গমিটারের একটি বাড়িতে বসবাস করেন৷ দুবছর আগে মালিকপক্ষকে একটি বড় বাড়ির জন্য অনুরোধ করে পরিবারটি৷ কিন্তু কোনো বড় বাড়ি খালি নেই বলে জানায় মালিক কোম্পানি৷

অভিবাসীদের বাড়িঘরগুলিকে স্বাস্থ্যকর বলা যায় না
খালিফি পরিবার মনে করে, বাসা খালি থাকলেও তা তাদের জানানো হয় না৷ তবে খোঁজ করলে বড়সড় বাড়ি যে পাওয়া যায় না, তা নয়৷ কিন্তু যে ভাড়া চাওয়া হয়,তা দেওয়ার মত আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই৷ তাদের কোম্পানিটি সস্তায় বাড়ি ভাড়া দেয় বলেই অনেক অভিবাসী কষ্ট করে হলেও তাদের কাছে রয়ে গেছেন৷
অভিবাসীদের বাসস্থানের এই রকম করুণ দশার আর একটি কারণ হল যে, তারা সাধারণত বড়বড় শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করেন৷ আর তাই বাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতাটাও কঠিন৷ সিবিলে ম্যুন্শ আরো জানান, ‘‘জার্মানদের তুলনায় অভিবাসীরা সাধারণত কম উপার্জন করেন, তাদের পরিবারগুলোও বড়৷ এছাড়া লক্ষ্য করা গেছে বাড়ি পেতে তাদের অসুবিধাও হয়৷”
‘নামেই তোমার পরিচয়’
এক সমীক্ষায় কয়েক ব্যক্তিকে দিয়ে বাড়ি ভাড়ার জন্য আবেদন করানো হয়েছিল৷ কয়েকজনকে সাজানো হয়েছিল জার্মান, কয়েকজনকে অভিবাসী৷ দেখা গেছে কথিত জার্মানরা এ ব্যাপারে অনেক বেশি সাড়া পেয়েছেন৷
টিউনিশিয়ান শেকড়ের জন্য তাঁদের এই ভোগান্তি হচ্ছে কিনা, তা অবশ্য স্পষ্ট করে বলতে পারবে না খালিফি পরিবার৷ তবে আদেল খালিফি মনে করেন, ‘‘বৈষম্য থাকলেও তা খুব সুপ্ত৷ কিন্তু আমার নাম ম্যুলার না হয়ে খালিফি হওয়ায় এটার একটা প্রভাব তো আছেই৷”


আবাসন সমস্যার সহজ সমাধান
ধরুন আপনি জার্মানির কোন ইউনিভার্সিটি থেকে অফার লেটার পেয়ে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। খুশির কথা । সবাইকে মিষ্টি খাওয়ান। কিন্তু সবার আগে যে কাজটা করবেন, তা হল এম্ব্যাসিতে ভিসার ইন্টার্ভিউ এর জন্য এপ্লাই করা। এটা খুবই জরুরী একটা ব্যাপার। কারণ বেশীরভাগ মানুষই ভিসা পাওয়ার পরে পাড়া প্রতিবেশী আর বন্ধুবান্ধবদের মিষ্টি খাওয়ানোর কাজে এতই ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে এই আসল কাজটা করতে ভুলে যায়। যার কারণে অনেকে এডমিশন পাওয়ার পরেও জার্মানি আসার সুযোগ পায় না।
তাই অফার লেটার পাওয়ার সাথে সাথে দেরী না করে ভিসা ইন্টার্ভিউ এর জন্য এপ্লাই করে ফেলবেন।
যাই হোক, ভিসা এপ্লাই শেষ। আল্লাহের রহমতে একটা ডেট পেয়ে গেলেন। কিন্তু দেখা গেল, ওইদিন আপনার কাজিনের বিয়ে, অথবা প্রিয় মানুষের জন্মদিন, অথবা ভ্যালেন্টাইন্স ডে (!!) টাইপের বিশেষ দিন। তাই মনে মনে বললেন, আরে ধুর। ডেট পিছিয়ে দেই। ডেট একবার পিছিয়েছেন তো শেষ। পরের সেমিস্টারে যাওয়া কিন্তু অনিশ্চিত হয়ে যাবে। তাই ইন্টার্ভিউ ডেট পেলে কোনমতেই চেঞ্জ করার চেষ্টা করবেন না। একেবারে কিছু করার না থাকলে (ধরেন আপনার নিজের বিয়ে !!) এই কাজটা করবেন না।
ইন্টার্ভিউ ডেট পেয়ে গেছেন। মোটামুটি সব কাগজপত্র তৈরি। কিন্তু দেখলেন শুধু একটা কাগজই নাই। সেটা হল “proof of genuine efforts to secure appropriate accommodation in Germany”। ওমা, এটা আবার কি। এটার অর্থ হল, আপনি জার্মানিতে গিয়ে সম্ভাব্য কোথায় উঠতে পারেন, তার একটা প্রমাণপত্র। আপনার তো মাথায় হাত। কিভাবে পাব প্রমাণপত্র। আপনার তো চৌদ্দগুষ্টীর কেউ জার্মানি যায় নাই। থাকার জায়গা পাব কই। যেই যুগ আসছে, এখন আপনি ঢাকায় বসে চট্টগ্রামের কোন বাসা ঠিক করতে পারবেন না। আর এটা তো সুদূর জার্মানি। আর এটা তো আর এমন না যে, নীলক্ষেত থেকে বানাই নিলাম, আর হয়ে গেল !! এখন কি করা যায়।
কথায় আছে, যত মুশকিল, তত আসান। তাই এটা নিয়ে এতটা চিন্তিত হবার আসলে কিছু নাই। জার্মানির সব শহরেই স্টুডেন্টদের থাকার জন্য একটা সেন্ট্রাল হোস্টেল সিস্টেম আছে। এরা সবচেয়ে কম খরচে স্টুডেন্টদেরকে হোস্টেল সুবিধা দেয়। এটাকে বলে, Studentenwerk। ধরুন আপনি Berlin যাচ্ছেন। তাহলে google এ গিয়ে studentenwerk berlin লিখে search করুন। পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইট। এবার ওদের অনলাইন এপ্লিকেশন অপশন খুঁজে বের করুন। অনলাইনে এপ্লিকেশন করে ফেলুন। এপ্লাই করার সময় আপনাকে অফার লেটার এর pdf টা attach করে দিতে হবে। এইভাবে এপ্লাই করা শেষ হলে একটা কনফার্মেশন মেইল পাবেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমব্যাসিতে ভিসা ইন্টার্ভিউ দেবার সময় ওই মেইলের একটা কপি অবশ্যই নিয়ে যাবেন। আপনার যদি ভাগ্য ভাল থাকে তাহলে হয়ত আপনার ভিসা ইন্টার্ভিউ এর আগেই Studentenwerk এর কাছ থেকে একটা কনফার্মেশন পেয়ে যাবেন। আর না পেলে আপনি waiting list এ আছেন, এমন একটা মেইল ওদেরকে পাঠাতে অনুরোধ করবেন। ওরা মেইলিং এর ব্যাপারে খুব আন্তরিক। আপনি অনুরোধ করলে ওরা পাঠিয়ে দিবে। এমবাসি যাবার সময় waiting list এ আছেন, ওই মেইলটাও নিয়ে যাবেন।
কিছু ইউনিভার্সিটির অবশ্য নিজেদেরই স্টুডেন্ট ডর্ম আছে। এরকম হলে তো কেল্লাফতে। আর কোন চিন্তাই নাই। ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট ডর্মে এপ্লাই করতে সমস্যা হলে, প্রোগ্রাম কোঅরডিনেটরকে মেইল করবেন। ওর কাছ থেকে হেল্প নেবেন। যদি ওদের স্টুডেন্ট ডর্মে সিট থাকে, তাহলে আপনাকে একটা Contract paper পাঠিয়ে দিতে বলবেন। এটাই এমব্যাসির জন্য যথেষ্ট।
এখন ধরুন, আপনার ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট ডর্ম নাই। আর studentenwerk এর কাছ থেকেও কোন কনফার্মেশন পান নাই। এখন কি করার আছে।
এখন আপনার হাতে দুইটা option খোলা আছে। ১/ private housing ২/ Youth Hostel
Private Housing মানে আমাদের দেশের বাড়ি ভাড়া নেয়ার মতই ব্যাপার। বাড়ির মালিক আপনার কাছে রুম ভাড়া দেবে। কিন্তু এক্ষেত্রে বাড়ির মালিককে একটা ভাল পরিমাণ টাকা এডভান্স করতে হয়। তাই এই ব্যাপারটা একটু সতর্কতার সাথে ডিল করবেন। সম্ভব হলে পরিচিত কাউকে পাঠিয়ে কনফার্ম করলে সবচেয়ে ভাল। Private Housing এর জন্য Google এ search করুন। আশা করি পেয়ে যাবেন। ওখান থেকে আপনার স্বাদ এবং সাধ্যের মধ্যে যে সব বাসা মিলবে, সেগুলোর মালিকের সাথে মেইল বা ফোনে যোগাযোগ করুন। এই ব্যাপারে বলে রাখি, বেশিরভাগ জার্মান বাড়ির মালিকই ভাল ইংরেজি জানে না। তাই, Deutsch জানে, এমন কাউকে দিয়ে কথা বলাতে পারলে ভাল। নাহলে মেইল করার সময় Google translator এর সাহায্য নেবেন। আপনি যদি এরকম কোন Private Housing এ বাসা পান, তাহলে ওই বাড়ির মালিকের Signature সহ কন্ট্রাক্ট পেপার পাঠাতে বলবেন (ইমেইলে বা পোস্টে). ওই কন্ট্রাক্ট পেপারের কপিটাই এমবাসিতে দেখাবেন।
আরেকটা অপশন হল, youth Hostel। Youth Hostel হল টেম্পোরারি থাকার জায়গা, অনেকটা হোটেলের মত, কিন্তু হোটেল না। ইউরোপের বেশিরভাগ শহরেই এরকম অসংখ্য Youth Hostel আছে। ইউরোপ যেহেতু প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক এবং স্টুডেন্ট আসে, তাই অল্প খরচে থাকার জন্য এই ব্যবস্থা। এটাকে বাংলাদেশের বোর্ডিং সিস্টেমের সাথে তুলনা করা যায়। এখানে থাকার খরচটা দৈনিক হিসেবে করা হয়। এইসব ইয়ুথ হোস্টেলের খোজও Google এ Search করলেই চলে আসবে। এইসব হোস্টেলে অনলাইন বুকিং সিস্টেম আছে। আপনি প্রয়োজন অনুসারে ১/২ মাসের জন্য বুকিং দিয়ে রাখতে পারেন। কারণ বেশিরভাগ Youth Hostel এ যাবার পরে যে কয়েকদিন থাকবেন, সে কয়েকদিন এর পেমেন্ট করতে হবে। তাই বেশিদিন বুকিং দিয়ে রাখলে কোন ক্ষতি নাই। বরং রিস্কে এ থাকবেন না। এরকম একটা Youth Hostel র লিঙ্ক দিলাম: http://www.aohostels.com/en/
Youth Hostel এ বুকিং করলে ওরা একটা কনফার্মেশন মেইল পাঠাবে। ওই মেইলের প্রিন্ট নিয়ে এমব্যাসিতে গেলেই হবে।
আশা করি এই পদ্ধতিতে আপনারা সহজেই আবাসন সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারবেন। সাথে সাথে আপনি যেই ইউনিভার্সিটি বা শহরে যাচ্ছেন, সেখানে অবস্থানরত বাঙ্গালী বা অন্য কোনভাবে পরিচিতদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিলে ব্যাপারটা আরও সোজা হয়ে যাবে।
একটা বিশেষ ব্যাপার বলে রাখি। অনেকের আত্মীয় বা বন্ধু জার্মানিতে আছে, যাদের কাছে বা যাদের সাথে চাইলেই আপনি থাকতে পারবেন। কিন্তু এমব্যাসিতে ঠিকানা বা ডকুমেন্ট দেয়ার সময়, তাদের ঠিকানা বা তাদের কাছ থেকে কোন ডকুমেন্ট না দেয়াই ভাল। কারণ এসবক্ষেত্রে অনেক সময় আপনার visa Status টা Student Visa থেকে Family Reunion ভিসায় ফেলে দেয়। তখন আপনার ভিসা reject হবার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকে। তাই এই ব্যাপারটা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। যেমন আমার ব্যাপারটাই বলি। আমি Accommodation Confirmation হিসেবে Youth Hostel Booking ছাড়াও আমার জার্মান প্রবাসী এক মামার ঠিকানা দিয়েছিলাম এবং তার সাথে প্রয়োজনীয় কাগজ ও যোগ করে দেই। কিন্তু আমার ভিসা অফিসার আমাকে কড়াভাবে বলে দিয়েছে, কোন রিলেটিভের সাথে থাকবে না। Student Dorm বা Youth Hostel এ থাকবে।
তাই যত টা সম্ভব এই ব্যাপারটা পরিহার করবেন।
সবশেষে একটা জিনিশ বলতে চাই। আপনারা হয়তো জার্মান এমব্যাসির এই নতুন নিয়মের জন্য প্রচণ্ড নাখোশ। কিন্তু আসলে একটু চিন্তা করে দেখুন। ব্যাপারটা কিন্তু খুবই জরুরী। এটা বাংলাদেশ না, যে কমলাপুর রেলস্টেশনে বসেই রাত কাটিয়ে ফেলা যায়। এটা এখানে কোনমতেই সম্ভব না। কারণ এখানকার আবহাওয়ার একদম মা বাপ নাই। যেমন, কালকের কথাই বলি। দুপুরে সেই রোদ চারিদিকে। বিকেলে মোটামুটি টি-সার্ট আর ট্রাউজার পরেই আমরা ক্রিকেট খেললাম। তাপমাত্রা প্রায় ২০ ডিগ্রির মত ছিল। কিন্তু রাতে এক বড় ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলাম। বাসা থেকে বের হয়ে মোবাইল বের করে দেখি তাপমাত্রা -৪ ডিগ্রী। তাই, এখানে এক জায়গায় বসে সময় পার করে দিব, এই চিন্তা ভুলেও আনবেন না।
ধৈর্য হারাবেন না । খুঁজতে থাকুন, পেয়ে যাবেন। আপনাদের জার্মানি আগমন সুন্দর, সাবলীল ও সফল হোক, এই কামনা করি।
‘বাড়ি খুঁজছেন? আপনি জার্মান না বিদেশি?’
জার্মানির বড় শহরগুলোতে বাড়ি কি ফ্ল্যাট ভাড়া পাওয়া এমনিতেই দুঃসাধ্য৷ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সেটা আরো বেশি কঠিন৷ বিদেশি-বহিরাগতদের সম্পর্কে বাড়ির মালিকদের প্রচলিত ধারণাকে জাতিবাদের নামান্তর বলা চলে৷
আইসেগুল আচার এক তুর্কি মহিলা৷ তাঁকে এক বাড়ির মালিকের কাছ থেকে স্পষ্ট শুনতে হয়েছে: ‘‘বিদেশিদের বাড়ি ভাড়া দেওয়া হবে না!” আইসেগুলের বাস বন শহরে৷ ৩০ বছরের বেশি আগে তিনি তুরস্ক থেকে জার্মানিতে আসেন৷ এ দেশটা তাঁর ভালো লাগে, নিজের স্বদেশ বলেই মনে হয় – কিন্তু বাড়ি খোঁজার সময় নয়৷

জার্মানিতে তিনবার বাড়ি বদলেছেন আইসেগুল৷ প্রতিবারই তাঁর একই অভিজ্ঞতা হয়েছে: জার্মান বাড়িওলাদের কাছে তিনি মনপসন্দ ভাড়াটিয়া নন৷ তাঁর পদবী, জার্মান ভাষা বলার ধরন এবং চেহারা – সবই ভুল, অন্তত বাড়িওলাদের চোখে৷ একা আইসেগুলেরই এই অভিজ্ঞতা নয়৷ বিদেশি-বহিরাগতদের অধিকাংশ জার্মানিতে বাড়ি খুঁজতে গিয়ে একই বৈষম্যের সম্মুখীন হয়েছেন৷
অথচ জার্মানিতে ভাড়াবাড়িতে থাকাটাই স্বাভাবিক: জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক বাস করে ভাড়াবাড়িতে৷ বার্লিন অথবা হামবুর্গের মতো বড় শহর ধরলে, সেখানকার প্রতি দশজন বাসিন্দাদের মধ্যে আটজনই থাকেন ভাড়াবাড়িতে৷ বড় শহরে খালি ফ্ল্যাটের সংখ্যাও কম – বা সম্ভাব্য ভাড়াটিয়াদের সংখ্যা বেশি৷ কাজেই বাড়ির মালিকরা যাকে ইচ্ছা নিতে পারেন কিংবা বাদ দিতে পারেন, ফ্ল্যাট দিতে পারেন কিংবা নাকচ করতে পারেন৷ যে ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানসহ একা বাসরত মহিলা, ছাত্র কিংবা কর্মহীনেরা আগেই বাদ পড়বেন বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে৷ সেই সঙ্গে যুক্ত হয় জাতিবাদ৷
হিজাব পরিহিতা মুসলিম মহিলারা এবং কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানরা বিশেষ করে এই জাতিবাদের শিকার হন: এঁদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ি বা ফ্ল্যাট খুঁজতে গিয়ে শুনেছেন, ‘‘দুঃখিত৷ ওই ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া হয়ে গিয়েছে৷” আইসেগুল আচারকেও বার বার সে অজুহাত শুনে বিদায় নিতে হয়েছিল৷ শেষমেষ তাঁর বড়ছেলের মাথায় একটি আইডিয়া আসে৷ ছেলেটি ঝরঝরে জার্মান বলে৷ সেই নাম ভাঁড়িয়ে জার্মান নাম ধরে টেলিফোনে জিগ্যেস করে, ফ্ল্যাটটা ভাড়া দেওয়া হয়েছে কিনা৷ বাড়িওলা এবার এই কাল্পনিক ‘‘হের শুলৎস”-কে সত্যি কথাটাই বলেন: না, বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়নি৷

দ্রষ্টব্য এটি শুধুমাত্র প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য যারা সত্যিই বিদেশ থেকে বিদেশে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। আবেদনকারীরা দৃঢ়ভাবে আমাদের অফিসে :
 সরাসরি যোগাযোগ বা মৌলিক তথ্যের জন্য ফোন 01911878274 এ সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়। যদি আপনি আরও যেতে চান তবে পাসপোর্ট সহ আপনার সমস্ত অ্যাকাডেমিক নথির সাথে আমাদের অফিসে যান।

সানরাইজ এডুকেশন কন্সালটেন্টস
ফোন: 01911878২74; 01707272625
ইমেইল: info@sunrise-bd.net
ওয়েবসাইট: www.sunrise-bd.net

No comments:

Post a Comment